
ডেস্ক নিউজঃ
নড়াইল সদর উপজেলার হিজলডাঙ্গা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের বিরুদ্ধে সরকারি নির্দেশনা অমান্য করে সময় শেষ হওয়ার পূর্বে স্কুল ছুটি দিয়ে বাড়ি চলে যাওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে।
সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী ৪ টা ১৫ মিনিটে স্কুল ছুটি হওয়ার কথা থাকলেও এই আদেশকে বৃদ্ধাঙ্গুলী দেখিয়ে ৪ টা বাজার আগেই স্কুলে তালা ঝুলিয়ে বাড়ি চলে গেছেন তারা।
নতুন সরকারের প্রথম কর্মদিবসে (১৮ ই ফেব্রুয়ারী) বুধবার ৪ টার দিকে বিদ্যালয়ে উপস্থিত হয়ে কোন শিক্ষকের দেখা পাওয়া যায়নি। এই ঘটনায় স্থানীয় এলাকাবাসী সহ অনেকেই হতবাক হয়েছেন। ২০০৮ সালের পরে ফ্যাসিস্ট সরকারের সময় অনেকেই চাকরিতে যোগদান করে এখানে কর্মরত থাকায় নতুন সরকারের প্রথম দিনে সরকারি নির্দেশনা অমান্য করার ধৃষ্টতা দেখিয়ে থাকতে পারেন বলে অভিমত
অনেকের।
হিজলডাঙ্গা গ্রামের বাসিন্দা লিটু জানান,চারটা বাজার আগে থেকে স্কুলের সামনে বসে মোবাইল দেখছি। কোন শিক্ষক বা ছাত্রকে দেখিনি। তারা অনেক আগেই চলে গেছে।
স্থানীয় এলাকাবাসী সঞ্জিত বিশ্বাস জানান, চারটা বাজার আগেই দোকানে চা খেতে এসেছি, স্কুলের ছাত্র বা শিক্ষক কাউকে দেখিনি। প্রতিনিয়তই এরকম ফাঁকি দিয়ে সময়ের পূর্বে চলে যান সবাই। দেখার কেউ নেই।
স্থানীয় বাসিন্দা অসিত দাস জানান, স্কুলের শিক্ষকদের স্বেচ্ছাচারীতার জন্য স্কুলটিতে ছাত্র ছাত্রীর সংখ্যা আশংকাজনক হারে কমে গেছে। অনেকেই এই স্কুল থেকে ছাত্র – ছাত্রী নিয়ে সীতারামপুর সঃ প্রাঃবিদ্যালয়ে ভর্তি করাচ্ছেন। এনিয়ে এই স্কুলের শিক্ষকদের কোন মাথা ব্যথা নেই।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে একজন জানান,হিজলডাঙ্গা প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সিনিয়র শিক্ষক স্বপন রায় স্থানীয় হওয়ায় এলাকাবাসীরা শিক্ষকদের অনিয়ম দূর্নীতি বন্ধ করতে পদক্ষেপ নিতে পারছেন না। স্কুলের বিষয়ে কিছু বলতে গেলেই তিনি বাঁধার সৃষ্টি করেন। স্বপন রায় দুপুরে বাড়ি গিয়ে খাবার খেয়ে রেস্ট নিয়ে তারপরে স্কুলে আসেন। এ যেন মামার বাড়ি। যা ইচ্ছে তাই হচ্ছে।
আপনারা আসছেন, এখন কয়েকটা দিন ঠিকঠাক চলবে। মাঝে মধ্যে আসলে এরা অনিয়ম করতে সাহস পাবে না।
এ বিষয়ে প্রধান শিক্ষক স্বপ্না সেনের সাথে মুঠো ফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি আজ মিটিংয়ে ছিলেন বলে জানান।
মিটিং শেষে বিদ্যালয়ে যাননি, বাড়ি চলে গেছেন, তবে স্কুলের কোন এক শিক্ষকের সাথে পৌনে চারটার দিকে মুঠো ফোনে তার কথা হয়েছিল বলে জানান এবং শিক্ষকদের পক্ষে সাফাই স্বাক্ষী দেওয়ার চেষ্টা করেন। অথচ তিনি নিজেই মিটিং শেষে স্কুলে যাওয়ার প্রয়োজন মনে করেন নি।
এ বিষয়ে মুলিয়া ক্লাস্টারের দায়িত্বে থাকা (এটিও) মোঃ জাকির হোসেনের মুঠো ফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, আমি এই বিষয়ে প্রধান শিক্ষকের সাথে কথা বলবো।
সত্যতা পেলে বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহনের সুপারিশ করবো।
উল্লেখ্য এরপূর্বে প্রধান শিক্ষক স্বপ্না সেনের বিরুদ্ধে রুটিন মেইনটেনেন্সের চল্লিশ হাজার টাকা তুলে কাজ না করার অভিযোগ উঠেছিল,সরেজমিনে সাংবাদিকদের তদন্তে তার সত্যতাও মেলে।
অবস্থা বেগতিক দেখে প্রধান শিক্ষক সংবাদ প্রকাশ না করার অনুরোধ করে সেই সময় স্কুলে নাম মাত্র কিছু সংস্কার কাজ করেন।
স্থানীয় এলাকাবাসীরা জানান, বদলিসহ শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহন করলে এসব অনিয়ম অনেকটাই কমে যেত, তাই স্থানীয় কিছু শিক্ষককে বদলি করে নতুন শিক্ষক নিয়ে আসলে বিদ্যালয়ের পরিবেশ ও লেখা পরার মান ভালো হতো।এলাকাবাসী ও উপকৃত হতো।আমরা জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসারের কাছে স্কুলটিকে রক্ষায় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহনের জোর দাবী জানাই।


