
নড়াইল প্রতিনিধি:
নড়াইলে উদ্দেশ্য প্রণোদিত ভাবে মানববন্ধন সাজিয়ে কৃষি উদ্যোক্তাকে হয়রানি অভিযোগ উঠেছে। ঘটনাটি ঘটেছে নড়াইল লোহাগড়া উপজেলার মোচড়া গ্রামে।
এ ঘটনায় ভুক্তভোগী কৃষি উদ্যোক্তা ও গ্রামবাসী সূত্রে যানাগেছে,গত ২৬ জানুয়ারি বহিরাগত কিছু ভাড়াটিয়া লোক এসে মোচড়া বিলে মানববন্ধন করেন।
মানববন্ধনে তারা বলেন, রফিক শেখ রিসোর্ট ও মাছের ঘের নির্মানের অজুহাতে মোচড়া বিলের তিন ফসলি কৃষি জমি অবৈধভাবে দখল করে নিয়ে মাটি ভরাট, বাঁধ নির্মান ও মাছের ঘের খনন করছেন। এর ফলে মারাত্মক জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়ে বিস্তীর্ণ ফসলি জমি সম্পূর্ণভাবে চাষ করার অনুপযোগী হয়ে পড়েছে।
এ ঘটনার সত্যতা যাচাইয়ে মাঠে নামে সাংবাদিকদের একটি সংগঠিত টিম। সরেজমিনে গিয়ে পান তারা ভিন্ন চিত্র। স্থানীয় বাসিন্দা, ভুক্তভোগী পরিবারের সাথে গোপনে এবং প্রকাশ্যে খোঁজখবর নেন তারা।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, স্থানীয় বেকার যুবক রাজু নিজের কোন পরিচয় দেওয়ায় মত কোন কর্ম না থাকায় বেছে নিয়েছেন অন্যের ক্ষতি সাধন করা কাজ। ধনী ও সম্মানিত লোকদের মূল নিশানা করে ফাঁদে ফেলানোর চেষ্টা করেন রাজু ও ইট ভাটা মান্নান।
সম্প্রতি সময়ে এই মইনুল হাসান রাজু রফিক শেখের নিকট চাঁদা দাবি করেন। এবং ইটভাটা মালিক মান্নান তার কাছে মাটি দাবি করেন। মাটি আর টাকা না দেওয়ায় ক্ষিপ্ত হয় রাজু আর মান্নান। ইটভাটার প্রবেশপথে দোতলা ঘরে বসে কৃষি উদ্যোক্তা রফিক শেখ কে ফাঁসাতে দুই দফা
নীল নকশা চলে। বাজেট করা হয় মোটা টাকার৷ ভিন্ন গ্রাম হতে লোক ভাড়া করে মানববন্ধনের আয়োজন করেন তারা। এরপর গত ( ২৬ জানুয়ারি) মোচড়া মাঠে তাদের পরিকল্পনা অনুযায়ী মানববন্ধন হয়। মানববন্ধনে রফিক ভূমিদস্যু আখ্যা দিয়ে মান্নান ও রাজু সম্মানহানির বক্তব্য দেন। যে সব বক্তব্যের কোনো সত্যতা পায় না অনুসন্ধান টিম।
মানববন্ধনে উপস্থিত থাকা আনোয়ারের ছেলে নয়ন বলেন, আমি মাঠে ধান লাগতে গিয়েছিলাম তখন মানববন্ধনকারীরা আমাকে জোরপূর্বক ব্যানার ধরিয়ে দিয়ে রফিক এর বিরুদ্ধে বক্তব্য দিতে বলে। আমি তাদের ভয়ে বক্তব্য দিই।
স্থানীয় বাসিন্দা রাসেল বলেন, রফিক ভাইয়ের প্রকল্পের সাথে আমার বাড়ি। আমার বাড়ি থেকে বের হওয়ার রাস্তা ছিল না। রফিক ভাই আমাদের তার জায়গার উপর দিয়ে রাস্তা দিয়েছেন। সে খুব ভালো মনের মানুষ। তার সম্মান নষ্ট করার জন্য তাকে নিয়ে এহেন মানববন্ধন করেছেন।
মাঠে চাষাবাদ করা এক কৃষকের সাথে কথা হয় তিনি বলেন, আমি একজন কৃষক মানুষ। আমি চাষাবাদ করে খাই। আমার এই মাঠে চাষাবাদে কোন সমস্যা হয় না। এমনকি এই মাঠের কোন চাষির সমস্যা হয় না। বরং মান্নানের ইট ভাটার কারণে ফসলি জমি নষ্ট হচ্ছে। ইট ভাটার কালো ধোয়ায় স্থানীয় বাসিন্দারা স্বাস্থ্যসম্মতভাবে বসবাস করতে পারছে না। শিশুদের শ্বাসকষ্ট সহ বিভিন্ন রোগ হচ্ছে। মান্নানের বক্তব্য যেন ভূতের মুখে রাম নাম।
রফিক শেখ এর বড় ভাই সাঈদ বলেন,আমার ছোট ভাই রফিকুল ইসলাম। মান্নান মোল্যা ইটের ভাটার জন্য আমাদের ফসলি জমির মাটি চেয়েছিল। আমরা তাদের কাছে মাটি বিক্রি না করায় বহিরাগত লোক ভাড়া করে এনে আমার ভাই রফিক এর নামে অহেতুক মিথ্যা হয়রানি মূলোক অপপ্রচার চালাচ্ছেন। আমাদের কৃষি প্রকল্পে সম্বনিত ভাবে মাছ ও সবজি চাষ হয়।যা থেকে এলাকার বেকার যুবক কর্মসংস্থান সৃষ্টি হয়েছে। এই কৃষি প্রকল্প ধংস করার জন্য ইটভাটা মালিক মান্নান কৃষি প্রকল্পকে রিসোর্ট দাবি করে মিথ্যা তথ্য ছড়াচ্ছে। রফিক শেখ এর প্রজেক্টের নাম প্রাইড এগ্রো কম্বাইন্ড ফার্ম।
এ বিষয়ে ভুক্তভোগী কৃষি উদ্যোক্তা রফিক শেখ বলেন, আমি লিগ্যাল ভাবে জমি ক্রয় করে লিজ নিয়ে প্রাইড এগ্রো কম্বাইন্ড ফার্ম নামের প্রজেক্ট শুরু করি।
আমার গ্রামের রাজু নামের ছেলেটি আমার কাছে চাঁদা দাবি করে, আমি দিতে অস্বীকৃতি জানাইএবং একই এলাকার আগুন ইট ভাটা মালিক মান্নান আমার কাছে মাটি চাই তাকেও না দেওয়ায় ষড়যন্ত্রমুলক আমার বিরুদ্ধে মিথ্যা মানহানিকর মানববন্ধন করে।
রফিকুল ইসলাম আরো বলেন, তারা আমাকে ভুমি দস্যু বলছে আমি কার জমি দখল করেছি? আমার একটা কৃষি প্রকল্প। মুখে অনেকে অনেক কিছু বলবে। দিন শেষে প্রমান দরকার।
এ বিষয়ে জানতে ইটভাটা মালিক মান্নান বলেন, রফিকুল ইসলাম এত বড় ঘের করার টাকা পেল কই। সে জমি কিনে মাছের ঘের করছে। এতে তিন ফসলের ক্ষতি হচ্ছে। তবে মান্নানের ইট ভাটায় গিয়ে দেখা প্রয়োজনীয় কাগজপত্র না থাকা সত্ত্বেও স্থানীয় প্রভাব কাটিয়ে তিনি দীর্ঘদিন ধরে ইটভাটা পরিচালনা করে আসছেন।
মইনুল হাসান রাজুর সাথে যোগাযোগ করতে তার ব্যবহৃত ফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি এ বিষয়ে কথা বলতে রাজি হননি।


