রবিবার, ১৯ এপ্রিল ২০২৬, ০৯:২৬ পূর্বাহ্ন
Headline
নড়াইলে প্রাচীর তুলে বন্ধ করা হলো ২৫ টি জেলে পরিবারের যাতায়াত পথ নড়াইলে কৃষি প্রকল্প ঘিরে অপপ্রচার, নিরাপত্তাহীনতায় উদ্যোক্তা নড়াইলে গ্রাম বাংলার ঐতিহ্যবাহী ষাঁড়ের লড়াই  নড়াগাতীতে পেট্রোল পাম্প না থাকায় এমপি বিশ্বাস জাহাঙ্গীর আলমের বিশেষ উদ্যোগের ঘোষণা দুমকিতে পিকাপের চাপায় নিহত-১ জন সাংবাদিক মোঃ মনিরুজ্জামান চৌধুরী-এর জন্মদিন আজ নড়াইলে সংরক্ষিত মহিলা আসনে আলোচনার তুঙ্গে রয়েছেন টুকটুকি নড়াইলের নলদীরচরে মাদকবিরোধী আইনশৃঙ্খলা বিষয়ক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত নড়াইলে পৃথক অভিযানে ৭৪০০ লিটার ডিজেল জব্দ, জরিমানা আদায় আমি দুর্নীতি করি না কাউকে করতেও দেবনা- নবনিযুক্ত জেলা পরিষদের প্রশাসক মুস্তাফিজুর রহমান
নোটিশ
Wellcome to our website...
নড়াইলে প্রাচীর তুলে বন্ধ করা হলো ২৫ টি জেলে পরিবারের যাতায়াত পথ
/ ১১ Time View
Update : শনিবার, ১৮ এপ্রিল, ২০২৬, ৩:৪০ অপরাহ্ন

চিত্রা মেইল ডেস্ক রিপোর্টঃ

নড়াইলের লোহাগড়া উপজেলার লক্ষীপাশা গ্রামে সীমানা প্রাচীর নির্মাণ করে একটি সরকারি রাস্তা বন্ধ করে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এতে অন্তত ২৫টি জেলে পরিবারের চলাচলের পথ বন্ধ হয়ে গেছে। ফলে চরম ভোগান্তিতে পড়েছে পরিবারগুলো।

গত ( ১৬ এপ্রিল)বৃহস্পতিবার নড়াইল লোহাগড়া উপজেলার লক্ষীপাশা গ্রামে  সকাল ৯ টা থেকে বিকাল ৫ টা পর্যন্ত ৮ জন শ্রমিক এ সীমানা প্রাচীর নির্মান করেন।

স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, লক্ষীপাশা মৌজার সাবেক দাগ নং ২৬১ ও আর.এস ২০২৮ দাগের ৬ শতক জমি দীর্ঘদিন ধরে তাদের একমাত্র যাতায়াতের পথ হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছে। ব্রিটিশ আমল থেকে প্রচলিত এ পথটি এস.এ, আ.এস নকশা ও আর.এস পর্চায় ১/১ খতিয়ানে সরকারি রাস্তা হিসেবে অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

তবে সম্প্রতি এলাকার দেদার-ই-এলাহী ও তার সহযোগীরা ওই জমিতে নতুন করে প্রাচীর নির্মাণ শুরু করেন। এতে গ্রামের ভেতরের বসতবাড়ির সঙ্গে যাতায়াতের  সংযোগ সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে।

ভুক্তভোগী এক বাসিন্দা বলেন, “এই রাস্তা দিয়েই আমরা বহু বছর ধরে চলাচল করছি। হঠাৎ করে প্রাচীর তুলে দেওয়ায় এখন আমাদের ঘর থেকে বের হওয়ার কোনো পথ নেই।”

অবরুদ্ধ হয়ে পড়া হারানচন্দ্র বিশ্বাস জানান,” দেদার-ই-এলাহী ও তার সহযোগীরা পথটি এর আগে দুই বার বন্ধ করে দিয়েছিল। প্রশাসনের সহায়তায় দুই বার ভেঙে দেওয়া হয়েছে । নতুন করে গত বৃহস্পতিবার তার আবার প্রাচির নির্মান করেছেন। বিষয়টি আমরা উপজেলা প্রশাসনকে জানিয়েছি। ”

পথ আটকে সীমানা প্রাচীর নির্মান করায় অবরুদ্ধ হয়ে থাকা ভ্যান চালক ধ্রুব বিশ্বাস বলেন,” আমি ভ্যান চালিয়ে সংসার চালায়। পথ বন্ধ করায় ভ্যান নিয়ে আমি বের হতে পারিনি। ভ্যানের পর আমার রুজি- রিজিক। আমাদের মালো পাড়ায় ২৫ টি ঘর আছে। এই পথটা আমাদের যাওয়া আসার রাস্তা। আমরা সবাই বাড়ি বসা। আমাদের আয় ইনকাম বন্ধ। নদীতে গোছলে যাব তা ও যেতে পারছি না। আমরা সংখ্যালঘু হওয়ায় আমাদের প্রতি এই নির্যাতন। ”

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, এ নিয়ে পক্ষগুলোর মধ্যে বিরোধের জেরে আদালতে মামলা চলমান রয়েছে। সংশ্লিষ্ট জমি নিয়ে নিম্ন আদালত অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা জারি করলেও তা অমান্য করে প্রাচীর নির্মাণের অভিযোগ উঠেছে।

সুশান্ত কুমার বিশ্বাস বলেন,”আমাদের সংখ্যালঘু ২৫ টি জেলে পরিবারকে তাদের বসতভিটা থেকে  উচ্ছেদ করতে দেদার-ই-এলাহী তার লোকজন নিয়ে প্রশাসনকে ম্যানেজ করে সীমানা প্রাচীর নির্মান করেছেন। আমাদের চলাচলের শতবর্ষী এ পথ বন্ধ করে আমাদের বারবার হয়রানি করছে।এর আগে ও তারা দুই বার পথটি বন্ধ করেছে। এ বিষয় আমারা উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও জেলা প্রশাসকের নিকট অভিযোগ করেছি। ”

স্বপ্না বিশ্বাস নামে এক নারী জানান,”পথটি বন্ধ করে দেওয়ায় কেউ বাড়ি থেকে বের হতে পারছে না। ছেলে মেয়েরা স্কুলে যেতে পারছে না। বাঁশের মই দিয়ে চলচল করতে হচ্ছে আমাদের। বাড়ির মহিলারা কয়বার মই বেয়ে যাতায়াত করবে? আমাদের রাস্তাটার সীমানা প্রাচীর ভেঙে দিয়ে পুনরায় চলাচলের উপযোগী করে দেওয়ার জন্য প্রশাসনের সু দৃষ্টি কামনা করছি। ”

বিষয়ে জানতে অভিযুক্ত পক্ষের দেদার-ই-এলাহীর সাথে মোবাইলে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, “প্রবেশ পথের ওই রাস্তাটা পাঁচ শতক। আমাদের টোটাল বাড়ির সাথে কেনা। এটা যে কোন ভাবে “ক” তালিকায় চলে যায়। এ বিষয়ে আমরা কোর্টে মামলা করেছি।রায় হয়েছে। সরকার আপিল করছে। সেখানে ও আমরা কন্সেন্ট করছি। তার পর ডিসি অফিস থেকে  চার  পাঁচ বছর আগে অবমুক্ত করে দিছে। এখন যে জায়গাটা প্রাচির দেওয়া হয়েছে ওই জায়গা মামলার ভিতর নাই। ওখানকার জেলেরা রাস্তা চেয়ে একটি মামাল করছে। দেখবেন ওখানে একটা কামিনিফুল গাছ ছিল। ওই পাশ দিয়ে তাদের রাস্তা ছিল। ওখান থেকে তাদের রাস্তা দেওয়া হয়েছিল। নতুন যে প্রাচির টা দেওয়া হয়েছে সেটি ২২৬ দাগ। এবং এটি নিয়ে কোন মামলা নাই। উপজেলা ভূমি অফিস থেকে এক বার তদন্ত করা হয়েছিল। তারা সরেজমিনে গিয়ে দেখে এসেছে তাদের বের হওয়ার দুটি রাস্তা রয়েছে। স্কুল মাঠ থেকে ১০ ফিট চওড়া একটি রাস্তা আছে। এখন তারা উদ্দেশ্য মূলোক ভাবে সংখ্যালঘু তকমা দিচ্ছে। আমরা তো ঢাকাতে থাকি। বাড়িতে কেউ থাকেনা। ওই বাড়ির সীমানায় মদ, গাজার আসর বসানো হয়। এই কারনে আমরা মূলত পকেট গেটটা বন্ধ করে রাখছি। ”

এ বিষয়ে জানতে লোহাগড়া নির্বাহী অফিসার শাম্মী কায়সার বলেন, এ বিষয়ে একটি অভিযোগ এসেছে। দুই পক্ষকে তাদের প্রয়োজনীয় কাগজপত্র সহ অফিসে ডাকা হয়েছে। উভয় পক্ষের কাগজপত্র দেখে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category
Our Like Page

Recent Comments

No comments to show.